
ঠান্ডা লড়াই-এর সূচনা কীভাবে হয়
‘ঠান্ডা লড়াই’ কী? ঠান্ড লড়াই-এর সূচনা কীভাবে হয়? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।
উঃ- ঠাণ্ড লড়াই- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে সোভিয়েত রাশিয়া এবং পশ্চিমি রাষ্ট্রগুলি যুদ্ধে অবতীর্ন হয়।
যুদ্ধ চলাকালে তাদের মধ্যে নানা রকম মাতানৈক্য দেখা দেয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে পরস্পর বিরোধী দুটি গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে।
একদিকে আমেরিকার নৈতৃত্বাধীন পশ্চিমিজোট এদের বলা হয় প্রথম বিশ্ব। অপরদিকে সোভিয়েত রাশিয়া ও তার অণুগামী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র জোট।
তাদের বলা হয় দ্বিতীয় বিশ্ব। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে ‘দ্বিপাক্ষিক রাজনীতি’ বলা হয়।
এই রাজনীতিকে আবার ঠান্ডা লড়াই ও বলা হয়।
ঠাণ্ড লড়াই/স্নায়ুযুদ্ধের কারণ –
আদর্শবাদের বিভিন্নতা- ঠান্ডা লড়াইয়ের সূচনার কারণ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতোবিরোধ আছে।
অনেকের মতে ঠান্ডা লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল আদর্শগত সংঘাত থেকে। অনেকে মনে করেণ,
এ লড়াই আসলে সমাজতন্ত্রী সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমি রাষ্ট্রবর্গের আদর্শগত লড়াই।
অর্থনৈতিক কারণ- অনেকের মতে ঠান্ডা লড়াই হল একটা অর্থনৈতিক বিরোধ।
তাঁদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈশিষ্ট্য হল বিশ্বে পুজি বিনিয়োগের নতুন বাজার সৃষ্টি করা।
সে চেয়েছিল ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ধবংস করে ওই মহাদেশে মার্কিন অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করতে।
রাজনৈতিক কারণ- ঠান্ডা লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক।
যেমন-(ক)রাশিয়ার উপর জার্মানির আক্রমনের চাপ হ্রাস করার জন্য রাশিয়া জার্মানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রণাঙ্গন খোলার প্রস্তাব দিয়েছিল।
কিন্তু মিত্রশক্তি এ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। পরে রাশিয়া নিজ শক্তিতে জার্মানিকে পর্যুদস্ত করলে দ্বিতীয় রণাঙ্গন খোলা হয়।
এই ঘটনা পশ্চিমি শক্তির উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার মনে একটা গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
(খ)১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানে আণবিক বোমা নিক্ষেপ করলে রাশিয়া আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।
এজন্য স্তালিন দক্ষিণ ইউরোপে প্রভাব বিস্তারে উদ্যোগী হন।
ঠান্ডা লড়াই-এর বৈশিষ্ট্য — ঠান্ডা লড়াই-এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল-
১) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিশ্বে মহাশক্তিধর রাষ্ট্র হিসাবে আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার আবির্ভাব হয়।
সুতরাং এই সময়ে ঠান্ডা লড়াই বলতে বোঝায় আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
২) আমেরিকা ও সোভিয়োত রাশিয়া – দুই রাষ্ট্রই অন্যান্য রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে এবং তাদের সাহায্য লাভে তৎপর হয়।
৩) দুই পক্ষই ঠান্ডা লড়াইকে রাজনৈতিক মতাদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়।
আমেরিকা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের নামে এবং সোভিয়েত রাশিয়া সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা ও সাম্যবাদের নামে প্রতি দ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ন হয়।
৪) এই ঠান্ডা লড়াইকে কেন্দ্র করে দুপক্ষই জোর সামরিক প্রস্তুতি চালায় এবং প্রবল সামরিক বলে বলীয়ান হয়েও তারা সংঘর্ষে অবতীর্ন হওয়া থেকে বিরত থাকে।
উপসংহার — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নবম দশক পর্যন্ত এই ঠান্ডা লড়াই চলেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়ার শিবিরের মধ্যে।
অবশেষে সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে গেলে এই ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান ঘটে।
- Get link
- X
- Other Apps
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment
What type of content you need?