ন্যায় মতে অনুমিতি কাকে বলে
ন্যায় মতে অনুমিতি কাকে বলে ? এই প্রসঙ্গে পক্ষ সাধ্য ও হেতুর পরিচয় দাও।
উঃ ন্যায় মতে অনুমিতি – এই অংশের জন্য ১২নং প্রশ্নের ক) অংশ দেখো।
পক্ষ, সাধ্য ও হেতুর ধারণা- প্রত্যেক অনুমানে তিনটি পদ থাকে। যথা- পক্ষ, সাধ্য ও হেতু।
যেমন- যেখানে যেখানে ধূম সেখানে সেখানেই বহ্নি (পাকশালা) ওই পর্বতটিতে ধূম আছে। অতএব ওই পর্বতটিতে বহ্নি আছে।
এখানে পর্বত = পক্ষ, বহ্নি = সাধ্য এবং ধূম = হেতু। এই তিনটি পদের পরিচয় নীচে দেওয়া হল-
পক্ষপদ- যে ধর্মীতে বা অধিকরণে সাধ্যের সংশয় থাকে, তাকে বলে পক্ষ। দুরের পর্বতে ধূম দেখে সেখানে বহ্নির অনুমান করা হলে,
সেক্ষেত্রে পর্বত হল পক্ষ। পক্ষ হল অধিকরণ এবং সাধ্য হল সেই অধিকরণের ধর্ম।
পক্ষের ভূমিকা- ক) পক্ষ হল সাধ্যের অধিকরণ বা আধার। খ) পক্ষের সাধ্য আছে কি না এই সংশয় আমাদের মধ্যে থাকে।
তাই ‘পর্বতে বহ্নি আছে’ এই অনুমিতির মূলে আছে পর্বতে বহ্নির অস্তিত্ব সম্পর্কে সংশয়। গ) পক্ষ হল সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যপদ বা অনুমিত বাক্য।
সাধ্যপদ- যাকে সিদ্ধান্তে সাধন বা প্রমাণ করা হয় অর্থাৎ অনুমানের দ্বারা যা প্রমাণিত হয় তাকেই সাধ্য বলে।
‘যেখানে যেখানে ধূম সেখানে সেখানে বহ্নি’- দৃষ্টান্তটিতে বহ্নি হল সাধ্য।
সাধ্যের ভূমিকা- ক) পক্ষে আমরা সাধ্যের অস্তিত্ব প্রমান করতে চাই।
খ) সাধ্য হল অনুমানের বিষয় এবং তাই সাধ্যকে অনুমেয় বলা হয়। গ)সাধ্য হল সিদ্ধান্তের বিধেয় পদ বা অনুমিত বাক্য।
হেতুপদ- যে বিষয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পক্ষে সাধ্যের অস্তিত্ব অনুমান করা হয়, তাই হল হেতু।
হেতুর অপর নাম ‘লিঙ্গ’ বা ‘সাধন’ যে বিষয়টি অপ্রত্যক্ষ তাকে নির্দেশ করাই হেতুর কাজ বলে হেতুকে লিঙ্গ বা সাধন বলা হয়।
‘যেখানে যেখানে ধূম, সেখানে সেখানে বহ্নি’ দৃষ্টান্তটির ‘ধূম’ হল হেতু।
হেতুর ভূমিকা- ক) হেতুর অপর নাম চিহ্ন বা লিঙ্গ। ‘হেতুর দ্বারাই পক্ষে সাধ্যের অস্তিত্ব অনুমান করা সম্ভব হয়।
খ) হেতুর অন্য আর একটি নাম হল সাধন বা ভিত্তি। কেন না, হেতু হল সাধ্য সম্পর্কিত বাক্যের ভিত্তি।
হেতুর সঙ্গে পক্ষের সম্বন্ধ জ্ঞান এবং হেতুর সঙ্গে সাধ্যের সম্বন্ধ জ্ঞান-
এই দুটি জ্ঞানকে ভিত্তি করেই অনুমিত বাক্যে বা সিদ্ধান্ত বাক্যে সাধ্যের অস্তিত্ব অনুমান করা সম্ভব হয়
Comments
Post a Comment
What type of content you need?