দ্বাদশ শ্রেণি, বিষয় - দর্শন,
প্রথম অধ্যায় : যুক্তি, সেট - ২
২১. অবরোহ অনুমান বা যুক্তি কাকে বলে?
উঃ যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয় বাক্য থেকে অনধিক ব্যাপক(কম ব্যাপক সম ব্যাপক) সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে অবরোহ অনুমান বলে। /
উঃ যে যুক্তিতে এক বা একাধিক আশ্রয় বাক্য থেকে অনধিক ব্যাপক(কম ব্যাপক সম ব্যাপক) সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে অবরোহ অনুমান বলে।
২২. অবরোহ যুক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উঃ অবরোহ যুক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো -
ক. অবরোহ যুক্তির আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রসক্তি সম্বন্ধ থাকে।
খ. অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্ত আশ্রয় বাক্যকে অতিক্রম করে না। অর্থাৎ সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা আশ্রয় বাক্যের চেয়ে বেশি হয় না।
২৩. অবরোহ যুক্তি কয় প্রকার ও কি কি?
উঃ অবরোহ যুক্তি দুই প্রকার। যথা -
ক. মাধ্যম অনুমান এবং খ. অমাধ্যম অনুমান।
২৪. কোন যুক্তির সঙ্গে বৈধ-অবৈধ বিষয়টি জড়িত?
উঃ অবরোহ যুক্তির সঙ্গে।
২৫. কোন যুক্তি বৈধ বা অবৈধ হয়?
উঃ অবরোহ যুক্তি।
২৬. কোন যুক্তির আশ্রয় বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়?
উঃ অবরোহ যুক্তির।
২৭. কোন যুক্তিতে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রসক্তি সম্বন্ধ থাকে?
উঃ অবরোহ যুক্তির।
২৮. যুক্তি কখন বৈধ হয়? অবরোহ যুক্তি কখন বৈধ হয়?
উঃ যখন অবরোহ যুক্তির আশ্রয় বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না অর্থাৎ যুক্তির আশ্রয় বাক্য সত্য এবং সিদ্ধান্ত সত্য হয় তখন অবরোহ যুক্তি বৈধ হয়।
২৯. যুক্তি কখন অবৈধ হয়?/অবরোহ যুক্তি কখন অবৈধ হয়?
উঃ যখন অবরোহ যুক্তির আশ্রয় বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না অর্থাৎ যুক্তির আশ্রয় বাক্য সত্য কিন্তু সিদ্ধান্ত মিথ্যা হয়, তখন অবরোহ যুক্তির অবৈধ হয়।
৩০. বৈধ যুক্তি বলতে কি বোঝো?/বৈধ অবরোহ যুক্তি কাকে বলে?
উঃ যে অবরোহ যুক্তির আশ্রয় বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় অর্থাৎ আশ্রয় বাক্য সত্য ও সিদ্ধান্ত সত্য হয়, তাকে বৈধ যুক্তি বলে।
৩১. অবৈধ যুক্তি বলতে কি বোঝায়?
উঃ যে অবরোহ যুক্তির আশ্রয় বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না অর্থাৎ আশ্রয় বাক্য সত্য কিন্তু সিদ্ধান্ত মিথ্যা হয়, তাকে অবৈধ যুক্তি বলে।
৩২. যুক্তির আকারগত বৈধতা কাকে বলে?
উঃ যুক্তির আকার বিন্যাসে বৈধতার শর্ত বা নিয়ম মেনে চলা কে যুক্তির আকারগত বৈধতা বলে।
৩৩. যুক্তির প্রয়োজনীয়তা কি?
উঃ কোন বিষয়কে প্রমাণ করাই হল যুক্তির প্রয়োজনীয়তা। অর্থাৎ যুক্তির প্রয়োজনীয়তা হল কোন বিষয়কে প্রমাণ করা।
৩৪. যুক্তির বস্তুগত সত্যতা কাকে বলে?
উঃ যুক্তির অন্তর্গত বচনগুলির বাস্তবিক সত্যতাকে, যুক্তির বস্তুগত সত্যতা বলে।
৩৫. কোন যুক্তির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত বা সুনিশ্চিত হয়?
উঃ অবরোহ যুক্তির।
৩৬. আরোহ যুক্তি কাকে বলে?/আরোহ অনুমান কাকে বলে?
উঃ যে যুক্তিতে অভিজ্ঞতা লব্ধ একই জাতীয় কতগুলি ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করে, প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির উপর ভিত্তি করে ওই সমজাতীয় ঘটনার ওপর একটি সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ যুক্তি বলে। /
উঃ যে অনুমানে অভিজ্ঞতা লব্ধ একই জাতীয় কতগুলি ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করে, প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির উপর ভিত্তি করে ওই সমজাতীয় ঘটনার ওপর একটি সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।
৩৭. আরোহ যুক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উঃ আরোহ যুক্তির দুটি বৈশিষ্ট্য হলো -
ক. আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি আশ্রয় বাক্যের অতিক্রম করে যায়।
খ. আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি আশ্রয় বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না।
৩৮. কোন যুক্তির সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয় বা সুনিশ্চিত হয় না?
উঃ আরোহ যুক্তির।
৩৯. যুক্তি গঠনের উদ্দেশ্য কি?
উঃ প্রমাণ ও আবিষ্কার হল যুক্তি গঠনের মূল উদ্দেশ্য।
৪০. যুক্তি ও বচনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উঃ যুক্তি ধর্ম হল বৈধতা পক্ষান্তরে বচনের ধর্ম হল সত্যতা। বা যুক্তি বৈধ বা অবৈধ হয়। কিন্তু বচন সত্য বা মিথ্যা হয়।
৪১. বৈধতা ও সততার মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।
উঃ বৈধতা হলো যুক্তির ধর্ম। পক্ষান্তরে সত্যতা হল বচনের ধর্ম।
৪২. আরোহ অনুমানের ভিত্তি কয় প্রকার ও কি কি?
উঃ আরোহ অনুমানের ভিত্তি দুই প্রকার। যথা -
ক. আকারগত ভিত্তি
খ. বস্তুগত ভিত্তি।
৪৩. আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি কি কি?
উঃ আরোহ অনুমানের আকারগত ভিত্তি দুটি। যথা - ক. প্রকৃতির একরূপতা নীতি এবং খ . কার্যকারণ নীতি।
৪৪. প্রকৃতির নীতি নীতি কাকে বলে?
উঃ প্রকৃতির সম অবস্থায় সমরূপ আচরণ করাকে প্রকৃতির একরূপতা নীতি বলে।
৪৫. কার্যকারণ নীতি কাকে বলে?
উঃ যে নীতি অনুসারে বলা হয় যে, প্রত্যেক কার্যের কোন না কোন কারণ থাকবে। অর্থাৎ কারন ছাড়া কার্য ঘটেনা, তাকে কার্যকারণ নীতি বলে।
৪৬. আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি কি কি?
উঃ আরোহ অনুমানের বস্তুগত ভিত্তি পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ।
৪৭. পর্যবেক্ষণ কাকে বলে?
উঃ সুনিয়ন্ত্রিত ও উদ্দেশ্য মূলক প্রত্যক্ষনকে পর্যবেক্ষণ বলে।
৪৮. পরীক্ষণ কাকে বলে?
উঃ সুনির্দিষ্ট পরিবেশে কোন ঘটনার পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষাকেই পরীক্ষণ বলা হয়।
৪৯. কোন যুক্তির সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয়?
উঃ আরোহ যুক্তির।
৫০. বৈধতার সঙ্গে সততার সম্পর্ক কি?
উঃ বৈধতার সঙ্গে সত্যতার সম্পর্ক - কোন যুক্তি তখনই বৈধ হয় যখন ঐ যুক্তির আশ্রয় বাক্য সত্য এবং সিদ্ধান্ত সত্য হয়।
Comments
Post a Comment
What type of content you need?