আগ্রহ এর সংজ্ঞা দাও। শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো।
উঃ-আগ্রহ এর সংজ্ঞা- আগ্রহ হল একটি মানসিক সংগঠন।
অন্যান্য মানসিক সংগঠনের মতো আগ্রহ সম্পর্কেও মনস্তত্ত্ববিদগণের নানারকম ব্যাখ্যা আছে।
এরকম চারটি ব্যাখ্যার উল্লেখ করা হল- ঔড়হবং -এর মতে ‘আগ্রহ বলতে আমরা বুঝি বাস্তব বা কাল্পনিক কোনো বস্তু
বা অবস্থার প্রতি অণুভূতি যা ব্যক্তিকে কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করে।’
খবব ঈড়ৎহনধপশ- এর মতে ‘যে ব্যক্তি যে কাজ করতে ভালোবাসে সেটাতেই তার আগ্রহ।’
ইরহমযঁস- এর মতে ‘আগ্রহ হচ্ছে এক প্রকারের অবস্থা যা ব্যক্তিকে কোনো কাজ করতে ও সেই কাজ চালিয়ে যেতে প্রেরণা জোগায়।
ঝঃৎড়হম -এর মতে ‘আগ্রহ সফলতার একটি অনির্দিষ্ট পরিমাপক।’
শিক্ষা ক্ষেত্রে আগ্রহের গুরুত্ব– ক) শিখনে মনোযোগ একটি আবশ্যিক শর্ত।
আর এই মনোযোগ আকর্ষণের অন্যতম ব্যক্তিনির্ভর শর্ত হল আগ্রহ।
খ) আগ্রহ কাজে সক্রিয়তা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। আর সক্রিয়তার ক্ষেত্রে আগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক সময়ই শিক্ষার্থীদের জটিল বিষয় অধ্যয়ন করতে হয়।
সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর উদ্দীপনা ও সক্রিয়তা একান্ত প্রয়োজন যা আগ্রহের মাধ্যমেই সৃষ্ট হয়।
গ) ব্যক্তি জীবনে আগ্রহের বিকাশ ঘটে। বয়স অণুযায়ী আগ্রহের পরিবর্তন হয়।
এই পরিবর্তন বা বিকাশের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,
অন্যদিকে তেমনি পাঠ্যবিষয় ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি শিশুর আগ্রহের পরিবর্তন অনুযায়ী নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
ঘ) অনেক শিক্ষামনোবিদ বলেন, আগ্রহতেই শিক্ষার শুরু ও শেষ।
বিষয়বস্তুর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা গেলে শিখনের একটি বড়ো অংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।
তাই শিক্ষা মনস্তত্বে ‘আগ্রহ’ বিষয়ে বিশদ আলোচনা দেখা যায়।
ঙ) শিক্ষার প্রতি আগ্রহ শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
শিক্ষার প্রতি আগ্রহ শিশু শিক্ষার্থীকে পরিণত বয়সে শিক্ষাবিদ হতে সাহায্য করে।
আর এই শিক্ষাবিদ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতকরণে নানাভাবে সাহায্ ) শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিদ্যালয় পাঠ্যক্রমের সাথে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কাজে অংশ গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীকে আগ্রহী হতে হবে। অর্থাৎ পাঠ্যক্রমিক ও সহপাঠ্যক্রমিক উভয় ক্ষেত্রেই আগ্রহ বিশেষ ভাবে প্রয়োজন।
Comments
Post a Comment
What type of content you need?