নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ ও সবিকল্পক প্রত্যক্ষের মধ্যে র্পাথক্য
ন্যায় মতে প্রত্যক্ষ কি ? খ)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ ও সবিকল্পক প্রত্যক্ষের মধ্যে র্পাথক্য লেখো গ)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ স্বীকারের যুক্তি কী ?
উঃ– ক)ন্যায় মতে প্রত্যক্ষ- ন্যায় দর্শনে প্রত্যক্ষ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
শব্দটি প্রত্যক্ষ প্রমাকে বোঝাতে পারে আবার প্রত্যক্ষ প্রমার করণকে বোঝাতে পারে।
প্রত্যক্ষ প্রমার করণ হল প্রত্যক্ষ প্রমান।প্রত্যক্ষ প্রমানের দ্বারা প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হয়।
‘‘ইন্দ্রিয়ার্থসন্নিকর্ষোৎপন্নং জ্ঞানম্ অব্যপদেশ্যম্ অব্যভিচারী, ব্যবসায়ত্মকং প্রত্যক্ষ্’’
অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে অর্থের (বিষয়ের) সন্নিকর্ষের ফলে যে অব্যভিচারী ও ব্যবসায়ত্মক অর্থাৎ যথার্থ ও সুনিশ্চিত জ্ঞান।
এই জ্ঞান পূর্বজ্ঞানের উপর নির্ভর করে না।চক্ষুর সঙ্গে ঘটের সন্নিকষের দ্বারা উৎপন্ন ঘট জ্ঞান হল ঘটের প্রত্যক্ষ জ্ঞান।
নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ- যে প্রত্যক্ষে বস্তুর অস্তিত্বের জ্ঞান হয়। কিন্তু বস্তুকে বিশেষ্য হিসাবে জানা যায় না।
গুন-জাতি ইত্যাদি জ্ঞান হয় কিন্তু এদের বিশেষণ হিসাবে জানা যায় না। যে প্রত্যক্ষ জ্ঞানকে বিশেষ্য বিশেষণ সম্বন্ধ-যুক্ত অবস্থায়,
অর্থাৎ বাক্য-আকারে প্রকাশ করা যায় না তাকে নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ বলে।
সবিকল্পক প্রত্যক্ষ- যে প্রত্যক্ষে বস্তুকে বিশেষ্য হিসাবে জানা যায় গুন জাতি ইত্যাদি কে ঐ বিশেষ্যর বিশেষণ হিসাবে জানা যাায়
এবং যে প্রত্যক্ষে জ্ঞানকে বিশেষ্য-বিশেষণ সম্বন্ধ-যুক্ত অবস্থায় অর্থাৎ আকারে প্রকাশ করা যায়, তাকে সবিকল্পক প্রত্যক্ষ বলে।
খ)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ ও সবিকল্পক প্রত্যক্ষের মধ্যে র্পাথক্য
১)ইন্দ্রিয় বিষয় সন্নিকর্ষ না হলে নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ হয় না।
ইন্দ্রিয়-বিষয়-সন্নিকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানের যে অস্পষ্ট অবস্থা আসে তাই হল নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ।
নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ না হলে সবিকল্পক প্রত্যক্ষ হয়না।নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষের পরে জ্ঞানের যে সুস্পস্ট অবস্থা আসে,তাই হল সবিকল্পক প্রত্যক্ষ।
২)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ হল বিষয়ের অবিশিষ্ট প্রতক্ষ।
অর্থাৎ এখানে বিষয়কে বিশেষণ-বিশিষ্ট-বিশেষ্য হিসাবে জানা যায় না।
সবিকল্পক প্রত্যক্ষ হল বিষয়ের বিশিষ্ট প্রত্যক্ষ।
অর্থাৎ এখানে বিষয়ের প্রকার বিশেষণ-বিশিষ্ট-বিশেষ্য হিসাবে জানা যায়।
৩)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ হল নিষ্প্রকারক জ্ঞান।কারণ,এখানে বিষয়ের প্রকার হিসাবে কোনো কিছুকে জানা যায় না।
সবিকল্পক প্রত্যক্ষ হল স্বপ্রকারক জ্ঞান। কারণ,এখানে ,প্রকার হিসাবে বিষয়ের গুন জাতি ইত্যাদি বিশেষণকে জানা যায়।
৪)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ হল সম্বন্ধ বর্জিত জ্ঞান। কারণ এখানে বিশেষ্য বিশেষণ সম্বন্ধকে জানা যায়।
সবিকল্পক প্রত্যক্ষ হল সম্বন্ধ যুক্ত জ্ঞান। কারণ এখানে বিষয়ের গুন জাতি ইত্যাদি কে বিশেষণ হিসাবে বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় জানা যায়।
৫)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ হল অব্যাপদেশ্য জ্ঞান। কারণ, বিশেষ্য-বিশেষণ-সম্বন্ধ বর্জিত বলে এই জ্ঞানকে বাক্যের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না।
সবিকল্পক প্রত্যক্ষ হল ব্যাপদেশ্য জ্ঞান। কারণ বিশেষ্য-বিশেষণ সম্বন্ধ যুক্ত বলে এই জ্ঞানকে বাক্যের দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
৬)বাক্য সত্য বা মিথ্যা হতে পারে। নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষকে বাক্যে প্রকাশ করা যায় না। তাই এখানে সত্য-মিথ্যার ব্যাপার নেই।
সবিকল্পক প্রত্যক্ষকে বাক্যে প্রকাশ করা যায়। তাই এই প্রত্যক্ষ সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।
গ)নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ স্বীকারের যুক্তি- প্রশ্ন ওঠে বস্তু সম্পর্কে আমাদের সব জ্ঞান যদি সবিকল্পক জ্ঞান হয়।
তবে নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ কেন স্বীকার করব ? উওরে নৈয়ায়িকরা বলেন সবিকল্পক প্রত্যক্ষের ঠিক পূর্বে নির্বিকল্পক জ্ঞান হয়েছে একথা স্বীকার করতে হবে।
নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ ছাড়া সবিকল্পক প্রত্যক্ষ হয় না।কোনো বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রথমে বোধ না হলে সেই বস্তুটি যে গোলাপ তার যে লাল রং আছে তা জানা সম্ভব নয়।
গোলাপ ফুলটির দিকে দৃষ্টিপাত করা মাত্রই ইহা এই রকম জ্ঞান হয়।এটি হল নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ।
তারপর এটি লাল গোলাপ-এই আকারে সবিকল্পক প্রত্যক্ষ হয়। সুতারাং সবিকল্পক প্রত্যক্ষের পূর্বে নির্বিকল্পক প্রত্যক্ষ স্বীকার করতে হয়।
Comments
Post a Comment
What type of content you need?