**১) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী বলতে কী বোঝোয় ? বিভিন্ন প্রকারের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিগুলি কী কী ?
উঃ- গতানুগতিক পাঠক্রমের একটি অংশকে পাঠক্রমিক হিসাবে বিবেচনা করে পাঠক্রমের অপর অংশগুলিকে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
যে সব কার্যাবলি শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার সামগ্রিক জীবনবিকাশের অন্যান্য দিকে সহায়তা করে,
সেগুলিকে বলা হয় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি।
সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির প্রকারভেদ- শিক্ষাবিদ শিক্ষার উদ্দেশ্য সাধনের দিক থেকে,
এই কাজগুলিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। সেগুলি হল- ক)শরীরচর্চামূলক কার্যাবলি খ) বিশেষ শিক্ষামূলক কার্যাবলি গ) সামাজিক কার্যাবলি।
ক)শারীরচর্চামূলক কার্যাবলি- শিক্ষার্থীর দৈহিক বিকাশে সহায়তা করা শিক্ষার উদ্দেশ্যের অন্তর্গত।
প্রধানত তাদের এই দৈহিক বিকাশে সহায়তা করার জন্য শিক্ষালয়ে বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চা সম্বন্ধীয় কাজকে,
সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, ভারতীয় শিক্ষাকমিশন তাদের প্রতিবেদনে
এই জাতীয় কার্যাবলির শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক গুরুত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারীরশিক্ষা কেবলমাত্র যে শিক্ষার্থীদের দৈহিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে তাই নয়,
শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, মানসিক ক্ষমতাবলি ও নানা ধরনের সামাজিক গুন বিকাশেও সহায়তা করে
অর্থা বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চামূলক কার্যাবলি শিক্ষার্থীদের দৈহিক বিকাশে সহায়তা করার সঙ্গে,
তাদের আদর্শ চরিত্র বিকাশের উপযোগী মানসিক গুণাবলি ও সামাজিক বিকাশের উপযোগী,
বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত গুণাবলী বিকাশেও সহায়তা করে। তাই শিক্ষাবিদগণ বলেছেন,
বিদ্যালয়ের কর্মসূচীর মধ্যে এই শ্রেণীর কার্যাবলিকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এই শরীরচর্চামূলক কাজগুলিকে তাদের উদ্দেশ্যের ব্যাপকতার তারতম্য অণুযায়ী দুটি ভাগ করা যায়
– ১) ব্যায়াম বা শুদ্ধ শরীরচর্চামূলক কার্যাবলি ও ২) খেলাধুলা।
খ) বিশেষ শিক্ষামূলক কার্যাবলি- এমন অনেক সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলিকে শিক্ষালয়ের জন্য নির্বাচন করা যায়
যেগুলি শিক্ষার্থীদেরকে বিষয়কেন্দ্রিক জ্ঞানমূলক অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে।
যে সমস্ত সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি শিক্ষার্থীর জ্ঞানমূলক অভিজ্ঞতা অর্জনে এবং তার সম্প্রসারণে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে,
সেগুলিকে শিক্ষাবিদগণ বিশেষ শিক্ষামূলক কার্যাবলি হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন।
যেমন- কবিতা লেখা বা পাঠ করা, ছবি আঁকা, সাহিত্যসভা, বিতর্কসভা ইত্যাদিতে অংশ গ্রহণ করা এই জাতীয় কাজ।
বিশেষ শিক্ষামূলক সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলিকে তাদের উদ্দেশ্যগত ও প্রকৃতগত পার্থক্য অণুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায় যেমন-
১) সৃজনাত্মক কার্যাবলি ২) আত্মপ্রকাশমূলক কার্যাবলি ৩) রসোপলব্ধিমূলক কার্যাবলি ও ৪) প্রশাসনমূলক কার্যাবলি।
গ)সমাজ শিক্ষামূলক কার্যাবলি- শিক্ষালয়ে গতানুগতিক বৌদ্ধিক কার্যাবলির সঙ্গে সঙ্গে এমন কতকগুলি যৌথ কাজ গ্রহণ করা যেতে পারে,
যেগুলি প্রত্যক্ষ ভাবে শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশে সহায়তা করতে পারে।
শিক্ষার্থীর সামাজিক বিকাশে সহায়তা করাও আধুনিক শিক্ষার উদ্দেশ্য।
শ্রেণিকক্ষের মধ্যে কেবলমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান সরবরাহ করে, শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশে পরিপূর্ণভাবে সাহায্য করা যায় না।
সামাজিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সামাজিক বিকাশ দ্রুত হয়।
এমন কতকগুলি যৌথ কাজ আছ, যেগুলিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ,
শিক্ষালয়ই করে দিতে পারে। এই জাতীয় কাজগুলিকে বলা হয় সমাজ শিক্ষামূলক সহপাঠ্যকমিক কার্যাবলি।
সহপাঠ্যক্রমিক কার্যবলির বৈশিষ্ট্য-
১) এগুলি পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত বৌদ্ধিক বিষয়গুলির সহায়ক হওয়া দরকার।
২) সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি তাদেরই বলা হবে, যেগুলি শিশুর দৈহিক, মানসিক, প্রাক্ষোভিক, সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে।
৩) এই কাজগুলি গতানুগতিক শ্রেণিকক্ষের বাইরে সম্পাদিত হয়। তবে সব শ্রেণিবহির্ভূত কাজকে সহপাঠক্রমিক কাজ বলা যায় না।
কারণ, যে কাজ কোনো না কোনো দিক থেকে শিশুর জীবনবিকাশে সহায়তা করে, তাকেই সহপাঠক্রমিক কাজ বলা হয়।
৪)পাঠক্রম যেমন পরিকল্পিতভাবে রচনা করা হয়।
তেমনি পরিকল্পিত সূচী অণুযায়ী সহপাঠক্রমিক কাজগুলিও নির্ধারণ করা হয়।
তবে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির ক্ষেত্রে নির্বাচনের স্বাধীনতা অনেক বেশি থাকে।
Comments
Post a Comment
What type of content you need?